করভারে বিপর্যস্ত দেশের কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্প: বাজেট সংশোধনের দাবি
- আপডেট সময় ১২:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / ৩৮৯ বার পড়া হয়েছে
cashew fruit trees on plantation. close up selected The best cashew fruit are still fresh and ready to be harvested.
বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং শ্রমনির্ভর খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্প এখন গভীর সংকটের মুখোমুখি। সম্প্রতি ঘোষিত বাজেটে এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল—কাঁচা কাজুবাদাম (RCN)—আমদানির ওপর মোট প্রায় ৬৪.২৫% শুল্ক ও কর আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে বিপুল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষির সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের যে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণের বাস্তব চিত্রটি বেশ জটিল। সাধারণত ৪.৫ থেকে ৬ কেজি কাঁচা কাজুবাদাম (RCN) প্রক্রিয়াজাত করে মাত্র ১ কেজি খাদ্যোপযোগী কাজুবাদাম (Cashew Kernel) উৎপাদন করা সম্ভব হয়। বাকি বড় একটি অংশই খোসা, আর্দ্রতা ও অন্যান্য উপজাত হিসেবে বাদ পড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে তৈরি পণ্য ও কাঁচামালের ওপর একই হারে শুল্ক বা কর আরোপ করায় প্রক্রিয়াজাত শিল্পের প্রকৃত মূল্য সংযোজনের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং দেশীয় শিল্প পরিচালনা অর্থনৈতিকভাবে চরম অলাভজনক হয়ে পড়ছে।
উদ্যোক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিমাণ কাঁচা কাজুবাদাম উৎপাদিত হয়, তা দিয়ে দেশের মোট চাহিদার এক মাসেরও কম সময়ের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। ফলশ্রুতিতে, এই উদীয়মান শিল্পের টিকে থাকা এবং প্রবৃদ্ধির জন্য আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপরই প্রধানত নির্ভর করতে হয়। এই বাস্তবতায় আমদানিকৃত কাঁচা কাজুবাদামের ওপর ৬৪.২৫% উচ্চ হারের শুল্ক বজায় থাকলে দেশীয় শিল্প ও নতুন বিনিয়োগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সেই সাথে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি পুরোপুরি থমকে যাবে।
এই সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে সম্ভাবনাময় খাতটিকে রক্ষা করতে সরকারের প্রতি বিনীত ৪ দফা দাবি জানানো হয়েছে:
১. শুল্ক পুনর্বিবেচনা: আমদানিকৃত কাঁচা কাজুবাদামের (RCN) ওপর আরোপিত ৬৪.২৫% শুল্ক ও কর অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করে একটি যুক্তিযুক্ত ও শিল্পবান্ধব পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
২. চাষ সম্প্রসারণে প্রণোদনা: দেশে কাজুবাদামের স্থানীয় চাষ আরও বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কার্যকর প্রণোদনা এবং নীতিগত সহায়তা প্রদান করা।
৩. রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ: দেশে উৎপাদিত কাঁচা কাজুবাদাম যাতে দেশীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পায়, সেজন্য দেশীয় কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪. দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা: কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও শুল্ক কাঠামো সংশোধন করা হলে এই খাতটি দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারবে। অন্যথায়, বিপুল পরিমাণ দেশীয় বিনিয়োগ পণ্ড হওয়ার পাশাপাশি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাত অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।








