ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বগুড়া অঞ্চলে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল এবং প্রতিকূলতা সহনশীল জাত ও প্রযুক্তি পরিচিতি, উৎপাদন কৌশল ও সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo বগুড়া অঞ্চলের শস্যবিন্যাসে বিনা উদ্ভাবিত ফসলের জাত অর্ন্তভুক্তিকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo পাবনা সদরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ফসলের বীজ, সার ও চেক বিতরণ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য Logo দেশে বর্তমানে সারের সংকট নেই, মজুদও পর্যাপ্ত রয়েছে: কৃষি সচিব Logo পাবনায় ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন Logo রোপা আমন ধানের ব্লক প্রদর্শনীর চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু Logo পাবনায় ০২ দিনব্যাপী কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন ডিএই মহাপরিচালক Logo পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিনের যুগান্তকারী সাফল্য: আরও ১৫ হাজার মেশিন দিচ্ছে সরকার – মহাপরিচালক, ডিএই Logo বীজ ও ভ্যাকসিন বিতরণে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’ —-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী Logo পাবনায় ৭ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন
সার্ক অঞ্চলে টেকসই কৃষির জন্য

কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা সম্প্রসারণের আহ্বান

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • / ১৪২ বার পড়া হয়েছে

সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি) মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) “দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ” শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক পরামর্শ সভার উদ্বোধন করেছে। সভায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, গবেষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, ভূমির অবক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষির সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য একটি টেকসই পথ নির্দেশ করে।

অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পর্বের পর সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং সভার সমন্বয়কারী ড. রাজা উল্লাহ খান সভার উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ টেকসই খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়কে আরও শক্তিশালী করবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে ভারতের কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি ও খাদ্যব্যবস্থা বিষয়ক প্রধান বিশেষজ্ঞ অংশুমান দাস। তিনি মূলধারার কৃষি উন্নয়নে কৃষি-প্রতিবেশগত নীতিমালা অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি শুধু কিছু কৃষি প্রযুক্তির সমষ্টি নয়; এটি একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, বাহ্যিক উপকরণের ওপর নির্ভরশীলতা কমায় এবং জলবায়ুজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের (এআরডি এবং এসডিএফ) পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার। তিনি কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির বিস্তার ত্বরান্বিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা, নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেপালের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন সাবনাম শিবাকোটি জাতীয় কৃষিনীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবন, কৃষককেন্দ্রিক উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক জ্ঞান বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই কৃষি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য

সার্ক অঞ্চলে টেকসই কৃষির জন্য

কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা সম্প্রসারণের আহ্বান

আপডেট সময় ০৬:০৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি) মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) “দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ” শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক পরামর্শ সভার উদ্বোধন করেছে। সভায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, গবেষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, ভূমির অবক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষির সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য একটি টেকসই পথ নির্দেশ করে।

অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পর্বের পর সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং সভার সমন্বয়কারী ড. রাজা উল্লাহ খান সভার উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ টেকসই খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়কে আরও শক্তিশালী করবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে ভারতের কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি ও খাদ্যব্যবস্থা বিষয়ক প্রধান বিশেষজ্ঞ অংশুমান দাস। তিনি মূলধারার কৃষি উন্নয়নে কৃষি-প্রতিবেশগত নীতিমালা অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি শুধু কিছু কৃষি প্রযুক্তির সমষ্টি নয়; এটি একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, বাহ্যিক উপকরণের ওপর নির্ভরশীলতা কমায় এবং জলবায়ুজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের (এআরডি এবং এসডিএফ) পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার। তিনি কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির বিস্তার ত্বরান্বিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা, নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেপালের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন সাবনাম শিবাকোটি জাতীয় কৃষিনীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবন, কৃষককেন্দ্রিক উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক জ্ঞান বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই কৃষি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।