পরিবর্তিত জলবায়ুতে কৃষিতে আমাদের করণীয়
- আপডেট সময় ০৮:১৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / ২১২ বার পড়া হয়েছে
জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ, যার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে কৃষিখাতে। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় এ সংকট আমাদের জন্য আরও ঘনীভূত। অসময়ে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা ফসলের উৎপাদনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে কৃষি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের সনাতন পদ্ধতি বদলে টেকসই ও আধুনিক কৃষি কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় প্রধান পদক্ষেপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
- সহনশীল জাতের ফসলের চাষ: পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে লড়াই করতে গবেষকরা নানা প্রতিকূলতাসহনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন। খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য খরাসহনশীল (যেমন: ব্রি ধান৫৬, ব্রি ধান৫৭), উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য লবণাক্ততাসহনশীল (যেমন: ব্রি ধান৪৭, ব্রি ধান৯৭) এবং বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য জলমগ্নতাসহনশীল (যেমন: ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২) জাতের চাষ বাড়াতে হবে।
- পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার ও সেচ ব্যবস্থাপনা: ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধে ‘পর্যায়ক্রমিক ভেজানো ও শুকানো’ বা এডব্লিউডি (AWD) পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া ফোঁটা ফোঁটা সেচ (Drip Irrigation) এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (Rainwater Harvesting) মাধ্যমে সেচের পানির সংকট দূর করা সম্ভব।
- কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকায়ন: ভাসমান শয্যায় সবজি চাষ (হাইড্রোপনিক্স), ছাদ কৃষি এবং ‘স্মার্ট এগ্রিকালচার’ বা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে চাষাবাদের সময়সূচি পরিবর্তন করা এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎপাদন খরচ কমায়।
- মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও জৈব সার ব্যবহার: অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের বদলে কম্পোস্ট, কেঁচো সার (ভার্মিকম্পোস্ট) ও সবুজ সার ব্যবহার করতে হবে। এটি মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটিকে দীর্ঘমেয়াদে উর্বর রাখে।
- শস্য বহুমুখীকরণ ও সমন্বিত খামার: কেবল একটি ফসলের ওপর নির্ভর না করে একই জমিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসল (যেমন: ডাল, তেলবীজ, সবজি) চাষ করতে হবে। পাশাপাশি মাছ, মুরগি ও গবাদি পশু পালনের সমন্বিত খামার গড়ে তুললে কৃষকের অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমে।
জলবায়ু পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ রোধ করা হয়তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু সঠিক অভিযোজন কৌশলের মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গবেষক এবং প্রান্তিক কৃষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। তবেই জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।















