ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কৃষি কারিগরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo বগুড়ায় কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে রপ্তানিযোগ্য পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি বিতরণ Logo জেলা কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। Logo বগুড়া অঞ্চলে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল এবং প্রতিকূলতা সহনশীল জাত ও প্রযুক্তি পরিচিতি, উৎপাদন কৌশল ও সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত Logo বগুড়া অঞ্চলের শস্যবিন্যাসে বিনা উদ্ভাবিত ফসলের জাত অর্ন্তভুক্তিকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo পাবনা সদরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ফসলের বীজ, সার ও চেক বিতরণ উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য Logo দেশে বর্তমানে সারের সংকট নেই, মজুদও পর্যাপ্ত রয়েছে: কৃষি সচিব Logo পাবনায় ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন Logo রোপা আমন ধানের ব্লক প্রদর্শনীর চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু Logo পাবনায় ০২ দিনব্যাপী কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন ডিএই মহাপরিচালক

পাবনার লিচু বাংলাদেশের কৃষির এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / ২১৩ বার পড়া হয়েছে

সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লাল টকটকে রসালো লিচু। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। প্রকৃতির এই মনোরম দৃশ্যটি দেশের লিচুর রাজধানী হিসেবে খ্যাত— পাবনা জেলার।

চলতি মৌসুমে পাবনার লিচু বাগানগুলোতে যেন উৎসবের আমেজ। মৌসুমের শুরুতেই গাছে গাছে প্রচুর মুকুল আসায় ভালো ফলনের স্বপ্ন বুনছিলেন চাষিরা। সময়মতো বৃষ্টি, অনুকূল তাপমাত্রা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে ও কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগীতায় সেই আশা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

পাবনা জেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে লাল টকটকে লিচুর সমারোহ। দেশি জাতের আগাম লিচুগুলো ইতোমধ্যেই পেকে লাল বর্ণ ধারণ করেছে এবং বাজারে উঠতেও শুরু করেছে। তবে বোম্বাই, মুজাফফরীসহ অন্যান্য উন্নত জাতের লিচুগুলো এখনো কিছুটা সবুজ। বাগান মালিকরা জানাচ্ছেন, এই রসালো ও বড় জাতের লিচুগুলোর স্বাদ নিতে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হবে পবিত্র ঈদুল আজহার পর পর্যন্ত।

লিচুর এই বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। গত বছর আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় যে লোকসান গুণতে হয়েছিল, এবার তা সুদে-আসলে পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা।

লিচু চাষি আব্দুর রাজিম জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা সেচ, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ করে বাগানের নিবিড় যত্ন নিয়েছেন। গত বছর আশানুরূপ ফলন না পেলেও, এবার ফলন এতটাই ভালো যে সেই ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় আছেন তারা।

আরেক চাষি মহির উদ্দিন বলেন, পাবনার লিচুর সুনাম সারাদেশে রয়েছে। তার ৫০টি গাছ থেকে এবার ২ থেকে ৩ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছেন তিনি।

ভালো ফলন আর ভালো দাম—দুই মিলিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়াতে চান তিনি। দেশি জাতের লিচু আগে পাকে বলে সেগুলো এখন বাজারে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানান, এ বছর পাবনায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। শুরুতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যার কারণে এবারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন ৫০ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কৃষি বিভাগ পুরো মৌসুমজুড়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা আর কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে পাবনার মাটি এবার লিচুর ভারে ধন্য। সব মিলিয়ে বলা যায়, এবার পাবনার লিচু বাগানগুলো শুধু ফলনে নয়, সম্ভাবনায়ও ভরপুর। এই রসালো ফলের মিষ্টি স্বাদ যেমন ক্রেতাদের তৃপ্তি মেটাবে, তেমনি বাম্পার ফলন আর ভালো দাম কৃষকের ঘরে আনবে সমৃদ্ধির ছোঁয়া। লাল-সবুজের এই লিচু বাগানগুলো যেন বাংলাদেশের কৃষির এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার গল্পই বলে যাচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপলোডকারীর তথ্য

পাবনার লিচু বাংলাদেশের কৃষির এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা

আপডেট সময় ০৬:৩২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লাল টকটকে রসালো লিচু। ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। প্রকৃতির এই মনোরম দৃশ্যটি দেশের লিচুর রাজধানী হিসেবে খ্যাত— পাবনা জেলার।

চলতি মৌসুমে পাবনার লিচু বাগানগুলোতে যেন উৎসবের আমেজ। মৌসুমের শুরুতেই গাছে গাছে প্রচুর মুকুল আসায় ভালো ফলনের স্বপ্ন বুনছিলেন চাষিরা। সময়মতো বৃষ্টি, অনুকূল তাপমাত্রা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে ও কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগীতায় সেই আশা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

পাবনা জেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে লাল টকটকে লিচুর সমারোহ। দেশি জাতের আগাম লিচুগুলো ইতোমধ্যেই পেকে লাল বর্ণ ধারণ করেছে এবং বাজারে উঠতেও শুরু করেছে। তবে বোম্বাই, মুজাফফরীসহ অন্যান্য উন্নত জাতের লিচুগুলো এখনো কিছুটা সবুজ। বাগান মালিকরা জানাচ্ছেন, এই রসালো ও বড় জাতের লিচুগুলোর স্বাদ নিতে ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হবে পবিত্র ঈদুল আজহার পর পর্যন্ত।

লিচুর এই বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। গত বছর আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় যে লোকসান গুণতে হয়েছিল, এবার তা সুদে-আসলে পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা।

লিচু চাষি আব্দুর রাজিম জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা সেচ, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ করে বাগানের নিবিড় যত্ন নিয়েছেন। গত বছর আশানুরূপ ফলন না পেলেও, এবার ফলন এতটাই ভালো যে সেই ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় আছেন তারা।

আরেক চাষি মহির উদ্দিন বলেন, পাবনার লিচুর সুনাম সারাদেশে রয়েছে। তার ৫০টি গাছ থেকে এবার ২ থেকে ৩ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছেন তিনি।

ভালো ফলন আর ভালো দাম—দুই মিলিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়াতে চান তিনি। দেশি জাতের লিচু আগে পাকে বলে সেগুলো এখন বাজারে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক জানান, এ বছর পাবনায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। শুরুতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যার কারণে এবারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন ৫০ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কৃষি বিভাগ পুরো মৌসুমজুড়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা আর কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে পাবনার মাটি এবার লিচুর ভারে ধন্য। সব মিলিয়ে বলা যায়, এবার পাবনার লিচু বাগানগুলো শুধু ফলনে নয়, সম্ভাবনায়ও ভরপুর। এই রসালো ফলের মিষ্টি স্বাদ যেমন ক্রেতাদের তৃপ্তি মেটাবে, তেমনি বাম্পার ফলন আর ভালো দাম কৃষকের ঘরে আনবে সমৃদ্ধির ছোঁয়া। লাল-সবুজের এই লিচু বাগানগুলো যেন বাংলাদেশের কৃষির এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার গল্পই বলে যাচ্ছে।